পারিবারিক বাংলা গল্প : অনুপম, তার স্ত্রী সুমনা আর তাদের সাড়ে চার বছরের একমাত্র ছেলে অরিন্দম কলকাতার গল্ফ গ্রীনে একটি ফ্ল্যাটে থাকে । অনুপম একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর উচ্চপদে কাজ করে । আর্থিক অবস্থা বেশ ভালো তাদের । গল্ফ গ্রীনে যেখানে তারা ফ্ল্যাটে থাকে, সেখানে ফ্ল্যাটের দাম প্রচুর । কারণ সেখানে সবার অবস্থাই বেশ ভালো, বেশ অভিজাত এলাকাই বলা যেতে পারে । সবারই মোটামুটি এক বা একাধিক গাড়ি আছে । অনুপমদেরও দুটি গাড়ি । একটা নিয়ে অনুপম অফিসে যায় । আরেকটা নিয়ে সুমনা কোন প্রয়োজনে বেরোয় । বেশির ভাগ সময়ই অনুপম যখন অফিসে যায়, অরিন্দমকে স্কুলে দিয়ে যায়, কিন্তু কখনো তাকে তাড়াতাড়ি বেরোতে হলে সুমনা গাড়ি নিয়ে তাকে স্কুলে দিয়ে আসে । ফেরার সময় অরিন্দম স্কুলের বাসেই ফেরে ।
পারিবারিক বাংলা গল্প : ছবি
শুরুটা সহজ ছিল না
কিন্তু সুমনা আর অনুপমের জীবন প্রথম থেকেই এতোটা সহজ ছিলো না । অনুপম আর সুমনা দু’জনেই একই কলেজে বি.টেক পড়তো । তখন থেকেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে আর কলেজের শেষে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় । কিন্তু অনুপমের বাবা এই বিয়েতে কোনমতেই রাজি ছিলেন না । প্রধম কথা ছিলো তারা হলেন কুলীন ব্রাম্ভণ এবং তাদের অবস্থাও ছিলো খুবই ভালো । তার বাবা ছিলো হাইকোর্টের জজ এবং বর্ধমানে তাদের দেশের বাড়িতে জমি-জমাও ছিলো অনেক । সুমনারা ছিলো অব্রাম্ভণ এবং তুলনায় অনুপমদের অবস্থা ছিলো বেশ খারাপ । কারণ সুমনার বাবা সামান্য একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন ।
বিয়ে করার কথা শুনে অনুপমের বাবা তাকে জানিয়ে দিলেন যে, অনুপম তার পৈতৃক সম্পত্তির কোন অংশ পাবে না এবং সে যেন কখনোই আর বাড়িতে ফেরার কথা না ভাবে । এইভাবে অনুপমের বাবা তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে নেন । সুমনার বাবা-মা তাদের বিয়েতে সম্মতি দিলেও বলে দেন তারা যেন কোনরকম সাহায্যের কথা না ভাবে এবং তাঁরা কোনরকম অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন না, তাদের ব্যাপার তারাই যেন নিজেরা বুঝে নেয় ।
অনুপম আর সুমনা মন্দিরে বিয়ে করে । তাদের কয়েকজন বন্ধু ছাড়া সেই বিয়েতে প্রায় কেউই ছিলো না । তারপর শুরু হলো তাদের লড়াই । অনুপম একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে সামান্য মাইনেতেই কাজ করতে শুরু করে । কিন্তু তার সামান্য মাইনেতে বেহালায় বাড়িভাড়া দিয়ে থাকায় সমস্যা হচ্ছিলো । তাই সুমনাও একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ানোর কাজ নেয় ।
"গল্পের ঝুলি"তে পড়ুন "বাংলা অ্যাডভেঞ্চারের গল্প"
আস্তে আস্তে তাদের অবস্থাও ফিরতে থাকে । অনুপম নিজের যোগ্যতা আরো বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য চাকরী করার পাশাপাশি আরো দু’একটা কোর্স করতে শুরু করে । স্কুলের চাকরীর সঙ্গে সঙ্গে সংসারের অন্যান্য সমস্ত দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিয়ে সুমনা যোগ্যতা বাড়ানোর কাজে অনুপমকে সাহায্য করে এগিয়ে যাওয়ার কাজে ।
অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা বাড়িয়ে ফেলার পরে একটি বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে অনুপম সুযোগ পেয়ে যায় । তারপরে কয়েক বছরের মধ্যে নিজের যোগ্যতা এবং দক্ষতায় অনুপম সেই কোম্পানীতে বেশ উচ্চ পদে চাকরী করে । আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার জন্য সুমনা আর চাকরী না করে সংসার গোছানোর কাজে মন দেয় । কিছুবছর আগে অবধি তারা যাদবপুরের কাছে একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতো । ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে অনুপম গল্ফ গ্রীনের ফ্ল্যাটটা কিনেছে এই ছয়-সাত বছর হলো।
অতীতের টান
পদিপিসী আজ নিজের দেশের বাড়িতে ফিরে গেলেন ....। পদিপিসীর ভালো নাম পদ্মাবতী । গ্রামের লোকেরা প্রথমে পদু, তারপরে তাকে ‘পদি’ বানিয়ে দিয়েছে । পিসী সম্পর্কে অনুপমের দূর সম্পর্কের পিসী । তবে একই গ্রামে পাশাপাশি থাকার সূত্রে অনুপমকে শৈশবে কোলে-পিঠে মানুষ করেছেন । রাজু নামে পিসীর এক নিজের ভাইপো কলকাতার বাইপাসের বেশ ভিতরে গড়িয়ার বোড়াল এলাকায় থাকে এবং ইলেকট্রিকের কাজকর্ম করে ।
হঠাৎ করে একদিন রাজুর সঙ্গে অনুপমের দেখা হয়ে যায় তার অফিসে । আসলে অনুপম তাকে দেখতে পায়নি, কিন্তু রাজু তাকে তার কেবিনে বাইরে থেকে দেখেই চিনতে পেরেছিল । কোন একটা ইলেকট্রিকের কাজের জন্য সে ওই কোম্পানীতে টেন্ডার ভরেছিল । তারপরে হঠাৎ এক রবিবারে সে সোজা অনুপমের ফ্ল্যাটে এসে হাজির । অনুপমের কাছে এসে তদ্বির করছিল যাতে টেন্ডারটা যেন সে পায় । কিন্তু অনুপম তাকে সটান বলে দেয় যে, সেই ডিপার্টমেন্ট তার নয়, সুতরাং সে কিছু করতে পারবে না । তারপরে রাজু তার গ্রামের কথা, তার বাড়ির কথা তোলার চেষ্টা করতেই অনুপম বলে দেয়, এইসব ব্যাপারে সে কথা বলতে একদমই ইচ্ছুক নয় । কারণ যারা সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছে তাদের ব্যাপারে কথা বলতে সে আগ্রহী নয় ।
পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে যাচ্ছে দেখে সুমনা এসে সামাল দেয় - রাজু কোথায় থাকে, বাড়িতে কে কে আছে, কলকাতায় কতদিন হলো এসেছে, তার ছেলে-মেয়ে ক’জন ইত্যাদি ইত্যাদি প্রসঙ্গ তুলে । শেষ পর্যন্ত সে রাজুকে জোর করে সকালের জলখাবার খাইয়ে ফেরত পাঠায় । আসলে সুমনা তার স্বামীকে খুব ভালো করে চেনে । কারো কাছ থেকে সুযোগ নেওয়া সে একদম পছন্দ করে না । স্বাধীনচেতা, কর্মঠ, সৎ, একগুঁয়ে, জেদী - কিন্তু এইসব কিছু গুণগুলোই যে আজ অনুপমকে জীবনে সাফল্য এনে দিয়েছে সুমনার থেকে ভালো আর ক’জন সেকথা তার থেকে বেশি জানে ?
তারপরে বেশ কয়েক বছর বাদে আবার গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ রাজু এসে পদিপিসীকে অনুপমের বাড়িতে রেখে যায় । অনুপম তখন ছিলো না, সে ছিল অফিসে । সুমনার চিন্তা ছিলো, যে বাড়ি ফিরে অনুপমের কি প্রতিক্রিয়া হবে ? কারণ এর আগে কোন আত্মীয় তাদের বাড়িতে এসে কখনো থাকেনি, অনুপমের অফিসের বন্ধুরা তাদের ফ্যামিলি নিয়ে্ কয়েকবার এসেছে, কিন্তু তারা কখনো রাত্রিযাপন করেনি ।
অরিন্দম স্কুল থেকে ফেরার পরে এসে তার ঠাম্মীর কাছে গল্প করতে বসে গেছে । সুমনা একবার অনুপমকে ফোন করে তার পদিপিসী আসার কথা জানালো, অনুপম জানতে চাইলো, কিভাবে এলেন, কতোদিন থাকবেন কিছু বলেছেন কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি । সুমনাকে অল্প বুঝিয়েও দিলো যে, ওনার পরিচয় কি । তাদের সঙ্গে্ ওনার সম্পর্ক কি ? যাই হোক, সে কোন রকম অন্যরকম প্রতিক্রিয়া না দেখানোয় সুমনা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো । সুমনা ফোনটা ছাড়ার পরে এটাও বুঝলো, সম্পর্ক যাই হোক, পিসীর সঙ্গে অনুপমের ছেলেবেলার স্মৃতি, আবেগ অনুপমকে একটু হলেও ভাবুক করে তুলেছে । সুমনা কখনো শাশুড়ি, ননদ নিয়ে সংসার করেনি, তা্ই তার একটু চিন্তাও হচ্ছিলো । কারণ অনুপমের পিসীর সঙ্গে কোনরকম বাজে ব্যবহার অনুপম কিভাবে নেবে সে ব্যাপারে তার খুব টেনশন হচ্ছিলো ।
যাই হোক সেইরকম কিছুই ঘটলো না, পিসীর সঙ্গে সুমনার সম্পর্ক ভালোই তৈরী হয়েছে আর পিসীকে সুমনারও বেশ ভালো লেগেছে । সাধারণ আটপৌরে বিধবা মহিলা, সাধারণ চিন্তা-ভাবনা, ভালো মনের মানুষ, কখনোই সুমনার কাজের বা তাদের জীবনযাত্রার খুঁত ধরার চেষ্টা করেন না । বরং অনুপম আর অরিন্দম বেরিয়ে গেলে তিনি সুমনাকে সাহায্য করেন (কখনোই নিজের মতো করে নয়, সুমনার অনুমতি অনুযায়ী), সুমনার সঙ্গে বাজারে-ঘাটে যান । অরিন্দম স্কুল থেকে ফিরলে তাকে সাজ-পোষাক ছাড়ানো, তাকে গল্প বলতে বলতে খাওয়ানো সবই প্রায় তিনি করেন । আর অরিন্দমও কয়েকদিনের মধ্যেই বেশ তার ন্যাওটা হয়ে উঠেছে । এভাবেই দিন কয়েক কেটে যায় ।
হঠাৎ্ একদিন সকালে পিসী অনুপমকে বলে রাজুকে খবর দিতে, কারণ তিনি দেশের বাড়িতে ফিরে যেতে চান, রাজু যেন আগামীকাল সকালে এসে তাকে নিয়ে যায় । অনুপম জানতে চায় যে তার কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা । পিসী জানায় যে সেসব কিছু নয়, কলকাতায় এসেছিলেন তাই অনুপম আর তার সংসার দেখার খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো, এবার তিনি রাজুদের সঙ্গে আরেকবার দেখা করে নিজের সংসারে ফিরে যেতে চান । অনুপম তাও কথায় কথায় জানতে চায় তার বা সুমনার তরফ থেকে কোন ভুল হয়েছে কিনা । কিন্তু পিসী সুমনার ভূয়সী প্রশংসা করে । অনুপম নিশ্চিন্ত হয় । কিন্তু তা্-ও সে পিসীকে আর কিছুদিন থেকে যেতে অনুরোধ করে, কিন্তু পিসী রাজি হয় না । তাই কিছুটা বাধ্য হয়েই সে রাজুকে ফোন করে খবর দেয় ।
পিসী চলে গেছেন, সুমনার চিন্তা অরিন্দম স্কুল থেকে ফিরে কি করবে । কারণ পিসী যখন গেছেন তখন অরিন্দম স্কুলে গিয়েছিলো ।
একটি অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন
অরিন্দম এসেই পিসীর খোঁজ করেছে (তার ঠাম্মি)। পিসী যে ঘরে ছিলেন, সেখানে গিয়ে অনেকক্ষণ ঘুরঘুর করেছে । তারপরে এসে জিগ্গাসা করেছে “মা, আমাদের ঘরে কোন ছবি নেই কেনো”? সুমনা উত্তর দিয়েছে “কেনো ? আমাদের হলে তোমার বাবা যে ঘোড়ার দৌড়ের যে ছবিটা কিনে এনে লাগিয়েছেন সেটা আছে তো ।“ অরিন্দম বলে ওইরকম ছবি নয়, তোমাদের বিয়ের ছবি, সেখানে অনেক লোকজন, তাদের সবার সঙ্গে কতো গল্প, সেইরকম কোন ছবি নেই কেনো ?
অরিন্দমের প্রশ্নটা শুনে আজ এতোদিন পরে সুমনা হতভম্ব হয়ে যায়, ভেবে পায় না কি উত্তর দেবে । তার চোখটাও যেন কিরকম একটা কড়কড় করে ওঠে । কোনরকমে সে উত্তর দেয়, "তোমার বাবা জানে, তুমি বাবা এলে জিগ্গাসা কোর ।" অরিন্দম শান্ত হয় না, সে বলে "কেন ? তোমার তো বাবার সঙ্গেই বিয়ে হয়েছে, তুমি কেন জানো না ?" অরিন্দম এইরকম প্রশ্নই করে, সব কিছুতেই তার প্রশ্ন । সুমনা বলে, "ঠিক আছে এখন তুমি কাপড়-জামা ছেড়ে, মুখ-হাত ধুয়ে খেয়ে নাও, বাবা এলে আমি আর বাবা দু’জনে মিলে তোমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে ।"
অনুপম বাড়ি ফিরলে সুমনা তাকে অরিন্দমের প্রশ্নের কথা জানাতেই অনুপম হতচকিত হয়ে যায় । দু’জনেই ভেবে পায় না কি বলে অরিন্দমকে শান্ত করবে । কারণ সে এখন হোম-টীচারের কাছে পড়ছে, পড়া শেষ হলেই তাদের আবার এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে । অনুপম মুখ, হাত-পা ধুয়ে বসে মনকে শান্ত করে । ছেলের এই প্রশ্নের উত্তর তাকে দিতেই হবে । আসলে সে দোটানায় পড়ে যায়, কেন আজ হঠাৎ অরিন্দম এই ধরনের প্রশ্ন করছে । সঙ্গে সে ভাবতে থাকে সে কি বলবে কারণ, সে কখনো অরিন্দমকে কেন, কাউকেই কখনো মিথ্যে কথা বলেনি ।
গল্পের ঝুলিতে পড়ুন "বাংলা ভূতের গল্প"
একটা ছবির অভাবে শূন্যতায় ভরা
অরিন্দমের পড়া শেষ হয়ে গেছে । তার হোম টিউটর চলে যেতেই সে এসে সটান বসে পড়ে বাবার কোল ঘেঁষে । আর জানতে চায় যে কেন তাদের বাড়িতে তার বাবা-মার বিয়ের কোন ছবি নেই । অনুপম খুব শান্ত গলায় বলে “বলছি, কিন্তু তার আগে বলো তো তুমি এইরকম প্রশ্ন করছো কেন ?” তখন অরিন্দম সরল ভাবে বলে যে ঠাম্মি তাকে তার বাক্স থেকে খুব পুরানো একটা সাদা-কালো ছবি দেখিয়ে বলতো যে এটা তার বিয়ের ছবি । আর সেই ছবির যেকোন একজনকে দেখিয়ে তার সম্পর্কে নানা গল্প বলতো ।
যেমন টোপর পরা একজনকে দেখিয়ে বলতো যে এটা ঠাম্মির বর । আর তারপরে ঠাম্মির বরের নানা গল্প, তাদের বিয়ের নানা গল্প শোনাতো । কিন্তু তাদের বাড়িতে তো তার বাবা-মার বিয়ের কোন ছবিই নেই, তাহলে সে কাদের গল্প শুনবে বা তার বন্ধুদের কাদের গল্প বলবে ।
অনুপম দেখলো সুমনা উঁকি মেরে শুনছে যে সে অরিন্দমকে কি উত্তর দেয় । সুমনার ভীতি আর কৌতুহল মেশানো মুখচোখ দেখে হঠাৎ অনুপমের খুব হাসি পায় । কিন্তু অনুপম নিজেকে সামলে নিয়ে শান্তভাবে হাসিমুখে অরিন্দমকে বলে "আসলে কি জানো বাবা, আমি আর তোমার মা তো তোমাকে খুব ভালোবাসি, কিন্তু আমাদের যখন বিয়ে হয় তুমি তো তখন ছিলে না, তাই আমরা ভেবেছিলাম তোমার যখন পাঁচ বছর পূর্ণ হবে, তখন তোমার জন্মদিনে আমরা অনেককে ডাকবো আর তখন আমরা একটা ছবি তুলে সেই ছবিটা আমরা দেওয়ালে লাগাবো, কারণ তখন তুমিও সেই ছবিতে আমাদের সঙ্গে থাকবে ।"
অনুপমের উত্তর শুনে সুমনা যেন হাঁফ ছেড়ে বাচলো । অরিন্দম কিন্তু খুব মজা পেলো, আর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করে উঠলো, “তাহলে কবে আমরা ছবিটা তুলবো ? ছবিতে আর কে কে থাকবে ?” অনুপম কায়দা করে এড়িয়ে যাওয়া একটা উত্তর দেয়, "আগে তোমার পাঁচ বছর পূর্ণ হোক তারপরে তো" ! এমন সময় সুমনা অরিন্দমকে ডেকে নেয় পরের দিনের স্কুলের ব্যাগ গোছানোর জন্যে । অরিন্দম লাফাতে লাফাতে চলে যায়, আর অনুপম বোধ করে সে যেন আবার একটা কঠিন ইন্টারভিউতে পাশ করে গেলো ।
রাতের বেলায় যখন সুমনা আর অনুপম বিছানায় শুয়েছে, তাদের মাঝখানে অরিন্দম ঘুমিয়ে পড়েছে । তারা দু’জনেই বুঝতে পারলো দু’জনেই জেগে আছে । আসলে তাদের দু’জনকেই এই ছোট্ট একটা শিশুর একটা প্রশ্ন আজ অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে । এতোদিন তারা যেন সময়ের অমোঘ একটা গতির মধ্যে দিয়ে চলছিল । সেই গতি তাদের তাদের নিয়ে চলছিল দৈনন্দিনতার রুটিনে । তাদের বিয়ে, তাদের সিদ্ধান্ত, তাদের জীবনসংগ্রাম, তাদের স্বচ্ছলতার সার্থকতা সবকিছু যেন এক লহমায় হঠাৎ তাদের সামনে যেন একজোট হয়ে উপুড় হয়ে শূন্য পড়েছে এই ছোট্ট একটা প্রশ্নে । আর সবকিছু যেন আকস্মিকভাবে শূন্যতায় পরিণত হতে বসেছে এই একটা ছবির অভাবে ।
পূর্ণতা প্রাপ্তি
আজ অরিন্দমের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে, আজ তার জন্মদিন । ফ্ল্যাটের সামনে প্যান্ডেল হয়েছে, বাড়িতে অনেক লোক, দাদু-দিদা, রাজু আঙ্কল আর তার পরিবারের লোক, ঠাম্মি, বাবার অফিসের লোকেরা, তার বন্ধুরা, তাদের বাবা-মা সবাই এসেছে । অরিন্দম খুব খুশি । সবাই মিলে কেক কাটা হলো আর তাকে মাঝখানে রেখে, একদিকে বাবা আরেকদিকে মা আর বাকিরা সবাই মিলে একটা বড় ছবি তোলা হয়েছে । বাবা বলেছে দু’একদিনের মধ্যেই সেই ছবিটাকে বাঁধিয়ে বড় হলে রাখা হবে ।
ছবিটা এসে গেছে । ফ্ল্যাটের ডাইনীং রুমে বড় বাঁধানো ছবিটা আজ টাঙানো হয়েছে । অরিন্দম আজ খুব খুশি, আজকের পরে তাদের বাড়িতেও একটা ‘ছবি’ থাকবে । আর তাতে থাকবে অনেক অনেক গল্প ।
গল্পের ঝুলিতে "ভালোবাসার গল্প" পড়ুন
শেষের কথা .....
কোন "ছবি" কিন্তু শুধু দেওয়ালে লাগানোর জিনিস নয়, তা পারিবারিক ইতিহাস, আবেগ আর সম্পূর্ণতার প্রতীক । আপনাদের জীবনে কি কখনো অরিন্দমের মতো কোনো সরল প্রশ্ন পুরোনো কোন ক্ষত বা শূন্যতা সামনে এনে দিয়েছে ? নিচে কমেন্টে শেয়ার করুন । গল্প পড়ে ভালো লাগলে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা চেনা-পরিচিতদের শেয়ার করুন । আপনার একটি কমেন্ট বা শেয়ার আমাদের উদ্বুদ্ধ করে নতুন করে কিছু ভাবতে, নতুন কিছু লিখতে । “গল্পের ঝুলি” পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন - গল্পের ঝুলি
.jpg)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন