পাল্টিবাজ পল্টুদা (পর্ব ১) : নতুন ঢেউয়ের আগে | বাংলা রাজনৈতিক গল্প

ভূমিকা : রাজনীতির নদীতে জোয়ার-ভাঁটা লেগেই থাকে । পল্টু ঘোষাল, যিনি সাধারণত: ‘পল্টুদা’ নামেই সবার কাছে পরিচিত এবং একজন অর্ডার-সাপ্লায়ার । তিনি হলেন সেই নদীরই এক চিরন্তন সাঁতারু । বলতে পারেন,পকেটে থাকে তার তেলের ক্যান, মাথায় থাকে বিভিন্ন ফন্দি এবং মুখে থাকে স্তাবকতা আর ডিগবাজির নানা মন্ত্র । গোটা রাজ্যে যখন মানব দলের শাসন, পল্টুদা তখন মানব দলের নেতাদের পেছনে ঘুরে ঘুরে মোটা মোটা অর্ডার জোগাড় করছেন । কিন্তু হঠাৎ করে হাওয়া বদলায়, জনমতের পালা বদলায় এবং সংহতি দলের দিকে ক্ষমতা ঢলে পড়ে, তখন পল্টুদার রাতের ঘুম উড়ে যায় । গল্পের প্রথম পর্বে দেখবেন কিভাবে তিনি বুঝতে পারেন জনমতের স্রোত বদলাচ্ছে আর কিভাবে নিজেকে “সংহতি দলের গোপন সমর্থক” সাজিয়ে ফেলেন সুবিধা নেওয়ার জন্য আর ব্যবসা বাঁচানোর তাগিদে । তবে এই ডিগবাজি মারা কি এতোই সহজ ? পড়ুন বাংলা রাজনৈতিক গল্প “পাল্টিবাজ পল্টুদা”র প্রথম পর্ব, আর মজা নিন ।

পাল্টিবাজ পল্টুদার কীর্তি এবং রাজনৈতিক ডিগবাজির প্রস্তুতি।

পাল্টিবাজ পল্টুদা (পর্ব ১) : নতুন ঢেউয়ের আগে

পল্টু ঘোষাল, যাকে সবাই চেনে ‘পল্টুদা’ নামে, তার অফিসের আরামদায়ক চেয়ারে পেছনে হেলান দিয়ে চোখ বুজেছিলেন । তার হাতে সিগারেট জ্বলছে, সামনে টেবিলে জমা হয়ে আছে খবরের কাগজের কাটিং, অর্ধেক খাওয়া চায়ের কাপ আর কয়েকটা ফাইল । পরিবেশ দেখলেই বোঝা যাবে, পল্টুদা বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত । পল্টুদার এই অফিসটা ছোটখাটো হলেও বেশ লাক্সারীপূর্ণ । ‘পল্টু এন্টারপ্রাইজ’ নামের  অর্ডার সাপ্লাইয়ের এই সংস্থাটি যোগান দেয় সরকারী অফিসের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে স্কুলের মিড-ডে মিলের চাল, হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডার-স্যালাইন, এমনকি পূর্ত দফতরের জন্যে প্রয়োজনীয় সিমেন্ট আর বালিও । কিন্ত এতো বড় বড় অর্ডার পল্টুদা পেতেন কি করে ? আর সেটাই তো আসল ব্যাপার ।

একনিষ্ঠ সেবক পল্টুদা

পল্টুদা ছিলেন এককথায় মানব দলের একনিষ্ঠ ‘সেবক’ – কম করে বললে ভক্ত, বেশি করে বললে “অ্যাডজাস্টমেন্ট কিং” । মানব দল যখন ক্ষমতায়, নেতা থেকে কর্মী – পল্টুদা তাদের প্রত্যেকের কাছেই ছিলেন ঘরের মানুষ । মানব দলের বিধায়ক সুবোধবাবু থেকে শুরু করে মন্ত্রী অনির্বাণদা, এমনকি নিম্নস্তরের ক্লার্ক – সবাই পল্টুদার মিষ্টি কথায় ও ব্যবহারে বুঁদ । তিনি কক্ষনো কারো জন্মদিন ভুলতেন না, পূজার শুভেচ্ছা জানানোয় কক্ষনো ফাঁক রাখতেন না, আর কখনো অনুষ্ঠানে গেলে সবসময় তার হাতে থাকতো উপহার, ফুলের মালা আর শুভেচ্ছাপত্র । আর এইসবের বিনিময়ে তিনি যোগাড় করতেন মোটা অর্ডার – “পল্টুদা এই অর্ডারটা কি তোমায় ছাড়া অন্য কাউকে কখনো দিতে পারি, তুমি তো আমাদেরই একজন ।“

একদিনের কথা বলি, তাহলেই সব বুঝতে পারবেন । একদিন সকালে পল্টুদার মোবাইল বাজছে ঘন ঘন । পল্টুদা তখন বাথরুমে স্নান করে তৈরী হচ্ছিলেন । তাড়াতাড়ি ব্যস্ত হয়ে বেরিয়ে ফোনটা ধরতেই কুমারবাবু, পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনীয়ার, বলে উঠলেন – “পল্টু, তোমার স্কুল ভবনের মেরামতির কাজের সিমন্ট-লোহার দামটা ঠিক করে দিতে হবে । টেন্ডার অনুযায়ী না হলে কিন্তু ঝামেলা হয়ে যাবে ।“ পল্টুদা আশ্বস্ত করে বললেন, “কুমারবাবু আপনার জন্য তো আমার প্রাণটাও হাজির করতে পারি । আপনি কিচ্ছু চিন্তা করবেন না । কালই ফাইল রেডি করে আপনার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি । আপনি ওটা নিয়ে একদম চিন্তা করবেন না । আর শুনছিলাম বৌদির নাকি কিরকম একটা জ্বর হয়েছে সারছে না, আমি একজন এক্সপার্ট ডাক্তারের নাম্বার দিচ্ছি আপনি ফোন করে আপনার বাড়ির ঠিকানাটা বলে দেবেন, সন্ধ্যায় উনি গিয়ে বৌদিকে দেখে আসবেন, আমি বলে রাখবো ।“ কুমারবাবু খুশি হয়ে বললেন, “সত্যি পল্টুদা তুমি জিনিয়াস” । 

কুমারবাবুর ফোনটা শেষ হওয়ার পরমূহুর্তেই আবার একটা ফোন – জেলা পরিষদের সহ সভাপতি সুশান্তদা । ফোনটা পল্টুদা রিসিভ করতেই উল্টোদিক থেকে সুশান্তদা কোনরকম ভনিতা ছাড়াই বলতে থাকলেন – “শোন পল্টু, আমাদের দলের জেলা কর্মী সমাবেশে সবার জন্য তোমায় খাবারের ব্যবস্থাটা করে দিতে হবে । ভালো কিছু ব্যবস্থা করবে আর টাকা-পয়সা নিয়ে গাঁইগুঁই করা চলবে না ।“ পল্টুদা উত্তর দেন, “দাদা, আপনার জন্য আমি আমার মাথাটাও দিয়ে দিতে পারি । ভালো খাবারেরই ব্যবস্থা করে দেবো আর আপনি হাসিমুখে যা দেবেন তাই মাথা পেতে নেবো । কিন্তু তার আগে আমায় একটা সেবা করার অনুমতি দিতে হবে । আপনার গাড়ির সিট কভারটা খুব পুরানো হয়ে গেছে, ওটা আমি বদলে দিতে চাই । মানব দলের সহ-সভাপতির গাড়ির ওই পুরানো সিট কভারটা আমার দেখতে ভালো লাগছে না । আপনি শুধু বলে দেবেন, গাড়িটা কখন আমি ঘন্টা-দু’য়েকের জন্য পেতে পারি ।“ সুশান্তদা প্রসন্ন হয়ে বললেন, আগামীকাল আমি সকাল ১১.৩০ নাগাদ গাড়িটা ড্রাইভারকে দিয়ে পাঠিয়ে দেবো, তোর যা খুশি করিস ।“

ডিগবাজির প্রেক্ষাপট

কিন্তু রাজনীতির নদীতে তো জোয়ার-ভাঁটা লেগেই থাকে । গত কয়েক মাস ধরেই গোটা রাজ্যে সংহতি দলের পদযাত্রা, সভা-সমাবেশ আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিশ্রুতির বন্যা বইছে । পল্টুদা প্রথমে বিষয়গুলোকে পাত্তা দেননি । মানব দলের নেতাদের সঙ্গে বসে পল্টুদা মুচকি হাসতেন আর বলতেন, “আরে সংহতি দলটায় আসলে কোন সংগঠন নেই, ভেতরটা ফাঁপা । আমাদের দলের শিকড় তো মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে, তাকে ওরা নড়াতে পারবে না ।“ মুখে তিনি এসব বলছিলেন বটে, কিন্তু মনের মধ্যে তারও আশঙ্কা জন্মাচ্ছিলো । কারণ, সংহতি দলের সমাবেশে এখব লোকের ভিড় বেশি হচ্ছে, পাড়ায় পাড়ায় সংহতি দলের পতাকা উড়ছে, মিটিং-মিছিল বেড়ে গেছে । তার কিছু ব্যবসায়ী বন্ধুও আগে থেকেই সংহতি দলের সঙ্গে ভিড়ে গেছে । পল্টূদা বলতেন, “ওসব পার্টি বদল আমার দ্বারা হবে না, আর চিন্তার কিচ্ছু নেই – মানব দলই আবার ফিরবে ।“

কিন্তু নির্বাচন ফেরত বুথ সমীক্ষা থেকেই পল্টুদার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লো । নির্বাচনের ফল বেরোনোর দিন অফিসে বসে বেলা বারোটার মধ্যেই যখন সংহতি দল এগিয়ে যাচ্ছে দেখাতে লাগলো, টেনশনে পল্টুদার মাথায় বাজ ভেঙে পড়লো । তিনি চিৎকার করে তার কর্মচারী মিঠুকে চ্যানেল ঘোরাতে বললেও সব চ্যানেলেই একই খবর দেখালো । যার মোদ্দা কথা হলো, “রেকর্ড ভোটে এগিয়ে সংহতি দল ।“ পল্টুদা মানব দলের অফিসে ফোন করলেন, কিন্তু লাইন ব্যস্ত । বিধায়ক সুবোধবাবুর মোবাইল বেজে গেলেও কেউ ধরলো না । মন্ত্রী অনির্বাণদাকে ফোন করলে তার সেক্রেটারি ফোন ধরে বললো, “স্যার মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন, এখন কথা বলতে পারবেন না ।“ পল্টুদা বুঝতে পারলেন যে, স্রোত বদলাচ্ছে ।

ঠিক তখনই তাঁর চোখ পড়ল আলমারির ভেতর রাখা পুরোনো ডায়েরিটার দিকে। ডায়েরির শেষ পাতায় ছিল সংহতি দলের জেলা সভাপতি দীপঙ্কর বোসের মোবাইল নম্বর। দীপঙ্কর ছিলেন তাঁর ছেলেবেলার ক্লাসমেট, একসঙ্গে ক্রিকেট খেলেছেন একই ক্লাবে, ফাংশনে একসঙ্গে গান শুনতে গেছেন । কিন্তু পরে দীপঙ্কর রাজনীতিতে নামেন সংহতি দলে, আর পল্টুদা যান মানব দলের সঙ্গে ব্যবসার সম্পর্কে। সেই থেকে দেখা-সাক্ষাৎ প্রায় বন্ধ। পল্টুদা ইতস্তত করে দীপঙ্করের নম্বর টাইপ করলেন। অপর প্রান্তে দীপঙ্করের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট বললেন, “স্যার মিটিংয়ে আছেন, কিছু জানিয়ে রাখতে হবে কী ?” পল্টুদা গলায় মিষ্টি এনে বললেন, “পল্টু ঘোষাল বলছি—ওনার পুরোনো বন্ধু । বলবেন জরুরি কথা আছে।” 

রাত বাড়তে বাড়তে ফলাফল স্পষ্ট হয়ে গেল—মানব দল ক্ষমতা হারাচ্ছে, সংহতি দল গঠন করছে নতুন  সরকার। পল্টুদা টিভি বন্ধ করে অফিসের আলো নিভিয়ে দিলেন। তাঁর স্ত্রী মালতী ফোন করে বললেন, “শুনলাম সংহতি দল জিতেছে, এখন আমাদের কী হবে?” পল্টুদা বিরক্ত গলায় বললেন, “জানি না । এতো বছর ধরে যাদের তেল দিয়েছি, তারা এখন দু’দিনে পুরনো হয়ে গেল । নতুনদের তেল দিতে তো সময় লাগবে।” মালতী বললেন, আরে, চিন্তার কিছু নেই, তুমি তো ধান্দাবাজ, দেখো তুমি দু’একদিনেই নতুন  ফন্দি বার করে ফেলবে।” পল্টুদা থেমে ভাবলেন, হ্যাঁ, তিনিই তো “পাল্টিবাজ পল্টুদা” । 

ডিগবাজির প্রস্তুতি

পরদিন সকালে পল্টুদা অফিসে এসে প্রথম কাজ করলেন—দেয়াল থেকে মানব দলের পতাকা, ছবি সব নামিয়ে ফেললেন। কর্মচারী মিঠু অবাক হয়ে বলল, “দাদা,এটা কী হচ্ছে?” পল্টুদা বললেন, “পুজোর পর অফিসের নতুন সাজ দেবো, আর এইগুলো পুরনোও হয়ে গেছে।” আসলে তিনি নতুন সাজের কথা ভাবছিলেন সংহতি দলের রঙে। তাঁর মনে হলো, আগের যে সব অনুষ্ঠানে তিনি মানব দলের নেতাদের সঙ্গে তুলে ফটো তুলেছেন, সেগুলোই এখন বিপদের কারণ। কিন্তু তাঁর কাছে সংহতি দলের নেতাদের সঙ্গেও কিছু পুরোনো ছবি আছে—একবার এক বিয়েবাড়িতে দীপঙ্করের সঙ্গে, আর একবার এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংহতি দলের এক যুবনেতার সঙ্গে। তিনি সেগুলো খুঁজে বের করলেন। 

তারপর তিনি বাজারে গিয়ে কিনে আনলেন সংহতি দলের প্রতীকের টাই, একটা সাদা পাঞ্জাবি আর একটি সংহতি দলের পতাকা। তিনি সোজা চলে গেলেন সংহতি দলের জেলা কার্যালয়ের সামনে। কিন্তু সেখানে প্রচণ্ড ভিড়—নতুন সমর্থকদের লাইন, নেতাদের গাড়ি, আর প্যান্ডেলের মধ্যে উৎসব। পল্টুদা ভিড় ঠেলে এগিয়ে যেতে চাইলেন, কিন্তু কেউ তাকে চিনলো না। হঠাৎ তিনি দেখতে পেলেন দীপঙ্কর তাঁর কালো গাড়ি থেকে নামছেন। পল্টুদা এগিয়ে গিয়ে বলে উঠলেন, “দীপু! আমি পল্টু।” 

দীপঙ্কর ঘুরে দাঁড়িয়ে তাকালেন। তাঁর চোখে প্রথমে চমক, তারপর সামান্য বিদ্রূপ মেশানো কন্ঠে তিনি বললেন, “পল্টু! তুই এখানে? তোকে তো মানব দলের প্রতিটি অনুষ্ঠানে দেখতে পাওয়া যায় ।” পল্টুদা তৎক্ষণাৎ হেসে বললেন, “সে সব তো ব্যবসায়িক সম্পর্ক, দীপু । আমি তো আদতে সংহতি দলের আদর্শে বিশ্বাসী । তোর সঙ্গেই তো ক্লাবে বসে আলোচনা করতাম । এখন সংহতি দল সরকার গঠন করেছে, আমি সাহায্য করতে চাই ।” দীপঙ্কর ঠোঁটে হাসি এনে বললেন, “সাহায্য?এখন তো হাজার মানুষ সাহায্য করতে চাইছে । তোর সাহায্যের ব্যাপারটা আমরা পরে দেখব’খন ।” বলেই তিনি ভেতরে চলে গেলেন। 

পল্টুদা পিছনে দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর মাথায় নতুন ফন্দি আসতে শুরু করল। তিনি বুঝলেন, সরাসরি দাবি করলে হবে না, প্রমাণ করতে হবে যে তিনি আগে থেকেই সংহতি দলের পক্ষে ছিলেন। তাঁর পকেটে থাকা পুরোনো ফটোগুলো তিনি বের করে দেখলেন—দীপঙ্করের সঙ্গে বিয়েবাড়ির ছবি, সংহতি দলের যুবনেতার সঙ্গে গলায় মালা দেওয়ার মুহূর্ত। তিনি মনে মনে বললেন, “আমি তো সব জায়গায় উপস্থিত থেকেছি। কয়েকটা ফটো সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলেই সবাই ভাববে আমি দীর্ঘদিনের সংহতি দলের সমর্থক ।” 

ফিরে এসে তিনি তাঁর অফিসের কম্পিউটার খুললেন । মিঠুকে ডেকে বললেন, “আমার আর দীপঙ্করের  ছবিটা এডিট কর, যাতে মানব দলের কোনো চিহ্ন না থাকে । তারপর আমার কিছু পুরোনো পোস্ট যেখানে মানব দলের কথা আছে, সব ডিলিট করে দে । আর সংহতি দলের নতুন পোস্ট শেয়ার কর।” মিঠু অবাক হয়ে বললো, “দাদা, এতো তাড়াতাড়ি ?” পল্টুদা বললেন, “রাজনীতিতে যার দেরি, তার পায়ে বেড়ি ।“ 

সন্ধ্যা হলে পল্টুদা আবার সংহতি দলের অফিসে হাজির, এবার হাতে মিষ্টির বাক্স আর কিছু দলীয় পতাকা। তিনি দীপঙ্করের সেক্রেটারিকে ধরলেন, “আমি পল্টু ঘোষাল, ওনার পুরোনো বন্ধু। একটা ফাইল দিতে হবে।” সেক্রেটারি ভেতরে খবর দিলে দীপঙ্কর পল্টুদাকে এক কোণায় ডেকে নিয়ে বললেন, “পল্টু, তোর চালচলন আমি দেখতে পাচ্ছি। এত বছর মানব দলকে তেল দিয়েছিস, এখন বলছিস তুই আমার দলের লোক? সেটা বিশ্বাস করব কী করে?” 

পল্টুদা দমে গেলেন না । তিনি পকেট থেকে ছবি বের করে দেখালেন—একটা ছবি যেখানে দীপঙ্করের স্ত্রী পল্টুদার স্ত্রীর সঙ্গে বসে আছেন, আরেকটা যেখানে পল্টুদা দীপঙ্করের গায়ে হাত দিয়ে হাসছেন । তিনি বললেন, “এইটুকুই প্রমাণ । আমি তো ওইদিনই বলেছিলাম, মানব দলের কার্যকলাপ ভালো লাগে না, কিন্তু তখন ব্যবসার খাতিরে চুপ করে ছিলাম । এখন সংহতি দল এলে আমার সুযোগ এল সত্যি কথা বলার ।” 

দীপঙ্কর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “আচ্ছা, তোর কথায় যদি সত্যি থাকে, তো কাল আমাদের একটা ছোট্ট সাংগঠনিক বৈঠকে এসে একটা বক্তব্য দে । দেখি তুই কী বলিস।” পল্টুদা রাজি হয়ে বেরিয়ে এলেন । কিন্তু তাঁর মনে ভয় ধরল—বৈঠকে মানব দলের পুরোনো নেতারা আসবেন না তো? তাঁরা তাঁর আসল পরিচয় ফাঁস করে দেবেন না তো ? তিনি চিন্তায় ঘামতে শুরু করলেও, মুখের হাসিটা বজায় রেখে বেরিয়ে এলেন । 

বাড়ি ফিরে তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, “কাল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ডিগবাজি। যদি পারি, তবে ব্যবসা বাঁচবে, আর যদি না পারি...” কথা শেষ না করেই তিনি ড্রয়িংরুমে একটা সংহতি দলের পোস্টার টাঙাতে শুরু করলেন। তাঁর স্ত্রী বললেন, “তোমাকে তো পাগল-পাগল বলে মনে হচ্ছে।” পল্টুদা হেসে বললেন, “পাগল না, পাল্টিবাজ। রাজনীতিতে টিকে থাকার নাম হলো পাল্টিবাজি।” 

রাত তখন গভীর হয়েছে, কিন্তু পল্টুদা ঘুমাতে পারছেন না। তাঁর মাথায় ঘুরছে কালকের বৈঠক—সেখানে কী বলবেন, কীভাবে নিজেকে সংহতি দলের ‘গোপন সমর্থক’ সাজাবেন, কীভাবে মানব দলের সঙ্গে তাঁর পুরোনো সম্পর্ককে ‘বাধ্যতামূলক’ বলে চালিয়ে দেবেন। তিনি ডায়েরি ঘাঁটছেন, নোট তৈরি করছেন, আর মাঝে মাঝে আয়নায় নিজেকে দেখে বলছেন, “পল্টু, এবার প্রমাণ করো তুমি প্রকৃত অর্থেই ‘পাল্টিবাজ’।” 

 

প্রথম পর্বের এখানেই শেষ । গল্পটি পড়ে ভালো লাগলে শেয়ার করবেন । পল্টুদা কি সংহতি দলের বৈঠকে ডিগবাজি মারতে পারবেন? নাকি মানব দলের পুরোনো সাথীরা তাঁর আসল ছবি ফাঁস করে দেবে? পড়তে হবে দ্বিতীয় পর্ব—‘বৈঠকের মাঝে চমক’ ।

আরো ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের গল্প পড়তে ভিজিট করুন - "গল্পের ঝুলি"তে 


# সিরিজ গল্প # # ভালোবাসার গল্প # # ভৌতিক গল্প # রহস্য গল্প # # কল্পবিজ্ঞানের গল্প # # জীবন-অনুভূতির গল্প # # বাংলা ছোট গল্প # # শিক্ষণীয় গল্প #

 

 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন