আগে যা ঘটেছিলো ...

প্রচন্ড খরায় জ্বলছিলো কোলকাতা এবং গোটা রাজ্য । অনির্বাণ নামের বাঙালী বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছিলেন ‘মেঘদূত’ নামের এক যন্ত্র । তার উদ্দেশ্য ছিলো মেঘকে নিয়ন্ত্রণ করা । কিন্তু মেঘের পিছনে ছিলো অন্য গ্রহের প্রানীরা । মানুষের থেকে তারা অনেক উন্নত । মেঘদূত যন্ত্রের মেঘকে নিয়ন্ত্রণ করাতে যাওয়ার প্রচেষ্টা তাদের কাছে বার্তা পাঠায় এবং তাদের বার্তাবাহকরা এসে পৌছায় পৃথিবীতে ।

আগের পর্ব জানতে পড়ুন – [মেঘের বার্তাবাহক (পর্ব-২)-গল্পের ঝুলি]

ভিনগ্রহের বার্তাবাহকরা সোনালি আলোয় নেমে এসেছিল সচিবালয়ে। তারা জানিয়েছিলো – পৃথিবী ধ্বংসের পথে । মানুষ নিজে পৃথিবীকে ধ্বংস করছে । তাই তারা সময় দিয়েছিলো পাঁচ বছর । যদি মানুষ নিজেদের শোধরাতে পারে । না হলে তারা পৃথিবীকে বাঁচাতে মানুষের উপর ব্যবস্থা নেবে এবং তা হবে এক ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলা । তাদের শর্ত ছিলো দশ লক্ষ গাছ লাগানো, সম্পূর্ণ প্লাস্টিক বন্ধ, আর স্কুলে প্রকৃতির পাঠ চালু করতে হবে। বিনিময়ে তারা বৃষ্টি দিয়েছিল, খরা কাটিয়েছিল। কিন্তু সতর্ক করে গিয়েছিল – "আমরা দেখছি। প্রতিশ্রুতি ভাঙলে পরের বার আসবে ধ্বংস।" সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পাঁচ বছরের গল্পই তৃতীয় পর্ব।

মেঘের বার্তাবাহক (তৃতীয় পর্ব) : স্ফটিক বীজের রহস্য

মেঘের বার্তাবাহক (তৃতীয় পর্ব) : স্ফটিক বীজের রহস্য

আজ পাঁচ বছর পেরিয়েছে । আবার দেখা করতে আসছে তারা ..... অনির্বাণরা পারলো কি ? বাঁচবে কি তাদের রাজ্য ? বাঁচবে কি কোলকাতা ? নাকি নিদারুণ ব্যবস্থা নেবে বার্তাবাহকেরা?

পাঁচ বছরের প্রতিশ্রুতি

২০৮৫ সাল । কোলকাতা শহর । আকাশে ভেসে রূপালি মেঘ । কিন্তু এখন আর কেউ তাদের শুধু মেঘ বলে ভাবে না । শিশুরা পাঠ্যপুস্তকে তাদের পড়ে ‘চেতন মেঘ’ বলে । যেটা সাধারণ মানুষ জানে না, সেটা অনির্বাণ জানে, প্রতিটা মেঘের ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে পাঁচ বছর আগে আসা সেই সভ্যতার চোখ । যারা প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করছে, পর্যবেক্ষণ করছে ।

আজ অনির্বাণ উপস্থিত হয়েছে কোলকাতার সুপ্রাচীন, বিখ্যাত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে । আজ এখানে বিশাল অনুষ্ঠান – “বৃক্ষপ্রাণ প্রকল্প”র পাঁচ বছর পূর্তির সমারোহ । পাচ বছর আগে যেখানে ছিলো ফাঁকা মাঠ, আজ সেখানে পুরো মাঠ জুড়ে না হলেও মাঠের চারিদিকে এবং মাঠের একাংশ জুড়ে শুধু সবুজ আর সবুজ । আম, জাম, কাঁঠাল, অশ্বথ্থ আর বট গাছের সারি মাঠটাকে ঘিরে যেন পরম মমতায় হাত দিয়ে আড়াল করে রেখেছে । প্রতিটা গাছের গায়ে লাগানো আছে ছোট্ট ফলক – “আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ” ।

মাঠের একধারে মঞ্চে বসে আছেন মুখ্যমন্ত্রী । তার পাশেই অনির্বাণ এবং অন্যান্য আরো দু-চার জন । তাদের সামনে গোটা মাঠ জুড়ে বসে আছে হাজার হাজার স্কুল ছাত্র-ছাত্রী । তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে গাছের চারা । আজ তারা সবাই শপথ নেবে – সারা জীবন গাছ লাগাবে, পরিবেশ বাঁচাবে এবং বাঁচানোর দায়িত্ব নেবে ।

মুখ্যমন্ত্রী কথা বলার পরে অনির্বাণ মাইক্রোফোনে কথা বলতে শুরু করে, “পাঁচ বছর আগে, আমরা শপথ করেছিলাম দশ লক্ষ গাছ লাগানোর । আমরা সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছি । গত পাঁচ বছরে পনেরো লক্ষ গাছ এই রাজ্যে নতুন করে প্রাণ পেয়েছে ।“   

ছাত্র-ছাত্রীদের হাততালির শব্দে ফেটে পড়ে গোটা মাঠ । অনির্বাণ কথা বলতে থাকে মাইক্রোফোনে । কিন্তু তার মনের ভেতরে চলতে থাকে এক অস্থিরতা । কারণ, গতকাল রাতে সে আবার সেই সঙ্কেত পেয়েছে তার ‘মেঘদূত’ যন্ত্রে – “আমরা আসছি । দেখতে চাই, তোমরা প্রতিশ্রুতি রেখেছো কিনা”।

প্লাস্টিকমুক্ত শহর

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে অনির্বাণ বেরিয়ে পড়ে শহর ঘুরে দেখবে বলে । পাঁচ বছর আগেকার কোলকাতা এখন অনেক বদলে গেছে । সমস্ত চায়ের দোকানে এখন মাটির কাপ । দাম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রস্তুতকারকদের থেকে কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণ করে সরকার । সব দোকানে এখন কাপড়ের ব্যাগ, প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ।

প্লাস্টিকের বোতল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে । জল বহন করার জন্যেও আয়নাইজড ধাতব পাত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে । প্রস্তুতকারকদের উপর থেকে সবরকমের শুল্ক তুলে দেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রস্তুতকারকদের শুরু করার জন্যে অর্থসাহায্যও করছে সরকার । তাছাড়াও রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসেছে “নি:শুল্ক জলসত্র”- যেখানে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় জল পাওয়া যায়, সবসময় ।

রাস্তায় বেশিরভাগ গাড়ি বিদ্যুৎচালিত । পেট্রোল, ডিজেল বা গ্যাস সবরকমের গাড়ি নিষিদ্ধ করা হয়েছে । সরকার থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে পুরানো পেট্রোল, ডিজেল বা গ্যাসের গাড়ি জমা দিলে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি দেওয়া হবে বিনামূল্যে । 

রাস্তার একটি মোড়ে দাঁড়িয়ে অনির্বাণ দেখে, একদল তরুণ-তরুণী পোস্টার আঁকছে – “প্লাস্টিক নয়, পৃথিবী বাঁচাও ।“ যারা পোস্টার আকছিলো, তাদের মধ্যে একজন তরুণী অনির্বাণকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে এসে বললো, “আপনিই তো অনির্বাণ স্যার ! মানে যাঁর আবিষ্কার ‘মেঘদূত’ যন্ত্র ।   

অনির্বাণ মুচকি হেসে বলে, “সে তো অনেক পুরানো কথা । এখন তো তোমরাই আসল নায়ক । তোমরাই নতুন দিশা দেখাবে, এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের পৃথিবীকে ।“

তরুণীটি বলে ওঠে, “স্যার, আমরা তো শুধু আপনার দেখানো রাস্তা অনুসরণ করার চেষ্টা করছি মাত্র ।“

তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে হঠাৎ আকাশের রঙ পরিবর্তন হতে থাকে । আকাশে জমা হতে থাকে – সেই সোনালী মেঘ । আগেরবারের চেয়েও বড় আর উজ্জ্বল । তার মানে, তারা আসছে । অনির্বাণের বুকের ভেতর ধড়াস করে ওঠে । 

সে তরুণ-তরুণীদের অনুমতি নিয়ে যতো দ্রুত সম্ভব ব্যাটারী-চালিত গাড়ি চালিয়ে পৌছবার চেষ্টা করে সচিবালয়ের দিকে । গাড়ি চালাতে চালাতেই কয়েকটা জরুরী ফোন কল সেরে নেয় সে ।

দ্বিতীয় আগমন

এবারে সচিবালয়ের ছাদে জরুরী বৈঠক বসেছে । এবারকার বার্তাবাহকের চেহারা আগেরবারের চেয়ে সামান্য অন্যরকমের । আগেরবার তাদের দেহের ভেতরের আলো ছিলো নীল আর সবুজ, এবারে তার সঙ্গে যোগ হয়েছে উজ্জ্বল সোনালী আভা । বার্তাবাহকদের মধ্যে একজন এগিয়ে আসে – মনে হয় যেন একই সত্ত্বা, কিন্তু আরো পরিণত ।

“অনির্বাণ” বার্তাবাহকের কন্ঠ ভেসে আসে সবার মনে । “পাচ বছর ধরে আমরা দেখেছি, তোমাদের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করেছি ।“

মুখ্যমন্ত্রী অধীর আগ্রহে প্রশ্ন করেন. “আমরা কি প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরেছি?”

বার্তাবাহক একবার সবার মুখের দিকে তাকায় । তার চোখে এখন সামান্য সন্তুষ্টির আভাস ।

তোমরা গাছ লাগিয়েছো, প্রায় পনেরো লক্ষ । কিন্তু শুধু সংখ্যা নয়, দেখলাম, প্রতিটা গাছকে তোমরা ভালোবাসতে শিখেছো, ভালোবাসতে শিখিয়েছো । স্কুলের শিশুরা নিজ হাতে গাছের যত্ন নিচ্ছে । প্লাস্টিক প্রায় নেই বললেই চলে এই শহরে । বাতাসে অক্সিজেন বেড়েছে । নদীর জল আগের চেয়ে অনেক পরিষ্কার হয়েছে ।“

অনির্বাণের বুক ভারী হয়ে ওঠে - চোখে জল চলে আসতে চাইছে । তার এবং শহরবাসীর পাঁচ বছরের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে ।

কিন্তু বার্তাবাহকের কন্ঠ আবার ভারী হয় । “কিন্তু পৃথিবীর সব জায়গায় কি এরকম হয়েছে ? আমরা পুরো পৃথিবী দেখছি । তোমাদের এই রাজ্য বদলাচ্ছে, কিন্তু পৃথিবীর বহু জায়গায় এখনো আগুন জ্বলছে, গাছ কাটা হচ্ছে যথেচ্ছ । এখনও প্লাস্টিকের পাহাড় ডোবাচ্ছে সাগর ।“

নতুন বার্তা

বার্তাবাহক এবার সরাসরি অনির্বাণের দিকে তাকায় । “তোমাকে আমরা পৃথিবীতে আমাদের বার্তাবাহক হিসাবে নির্বাচিত করেছি । সমস্ত পৃথিবীর কাছে পৌছে দাও আমাদের কথা – পৃথিবী শুধু মানুষের নয়, এটা গাছেদেরও, পাখিদেরও, অন্যান্য পশুদেরও, পৃথিবীর প্রতিটা প্রাণীর । সবাইকে বাঁচাতে হলে ভালোবাসতে হবে । শুধু সংরক্ষণের আইন দিয়ে কিছু হবে না, মন থেকে  ভালোবাসতে হবে, ভালোবাসতে শেখাতে হবে ।“

অনির্বাণ মাথা নোয়ায় । “এ এক মহান দায়িত্ব । আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো । কিন্তু আমার একার পক্ষে এটা কি করে সম্ভব ?”

বার্তাবাহক তার হাত বাড়ায় । তার হাতের তালু থেকে বেরিয়ে আসে ছোট্ট কয়েকটি বীজ-স্ফটিকের । “এগুলো নিয়ে যাও, এগুলো আমাদের দেওয়া প্রথম উপহার – এক ধরনের বীজ । কিন্তু মনে রেখো এটা সাধারণ কোন বীজ নয়, এটি লাগালে জন্মাবে এমন এক গাছ, যা একশোটা গাছের সমান অক্সিজেন দিতে পারবে । একে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে, আমরা জানবো তোমরা সত্যিই বদলাতে চাও ।“

অনির্বাণ বীজগুলোকে হাতে নেয় । তার হাতের তালুতে বীজগুলোর মধ্যে যেন আলোর ঝিলিক খেলে যায় । সে প্রশ্ন করে, “কোথায় লাগাবো?”

বার্তাবাহক উত্তর দেয়, “যেখানে সবচেয়ে বেশি দরকার । সেখানে নিয়ে যাবে । সাহায্যের প্রয়োজন হলে আমরা পৌঁছে যাবো । মনে রাখবে আমরা দেখছি, সব সময় দেখছি ।“     

সতর্কবার্তা

বার্তাবাহক শেষবারের মতো সবাইকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখে নেয় । তারপরে আবার বলতে শুরু করে, কিন্তু এবারে তার কন্ঠে করুণার চেয়ে দৃঢ়তা বেশি, “আমরা তোমাদের একটা সুযোগ দিয়েছিলাম । তোমরা তা কাজে লাগিয়েছো – অন্তত: এই রাজ্যে । কিন্তু পৃথিবী অনেক বড় । তাই শুধু অনির্বাণ নয়, তোমাদের সবাইকেও দায়িত্ব নিতে হবে । অনির্বাণকেও সাহায্য করতে হবে । পৃথিবীর অন্য জায়গায় যারা ব্যর্থ হবে, তাদের জন্য আমাদের ব্যবস্থা হবে কঠোর । আরো পাঁচ বছর । তারপরে আমরা আবার আসবো । তখন যারা ব্যর্থ হবে, তাদের পৃথিবী থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে । মনে রাখবে, আমরা পৃথিবীকে ভালোবাসি-মানুষকে নয় । পৃথিবী বাঁচলে মানুষ বাচবে, কিন্তু মানুষ বাঁচলে যে পৃথিবী বাঁচবে-এমন নয় ।“

বার্তাবাহকের বলা শেষ কথাগুলো যেন বজ্রপাতের মতো আঘাত করে সবার মনে । তারপরে বার্তাবাহক এবং তার সঙ্গীরা ধীরে ধীরে পেছোতে পেছোতে মিশে যায় সোনালী আলোয়, আর সোনালী আলো যেন অদৃশ্য হয়ে যায় আকাশের সেই সোনালী মেঘে ।

তারা চলে যাওয়ার কিছু পরেই আকাশ থেকে নামে বৃষ্টি । কিন্তু এবারের বৃষ্টি যেন একটু অন্যরকম বলে মনে হয় অনির্বাণের । তার মনে হয়, বৃষ্টির প্রতিটা ফোঁটায় যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সেই শব্দ –

“মনে রাখবে আমরা দেখছি, সব সময় দেখছি ।“

প্রতীক্ষার প্রহর

রাতে অনির্বাণ বসেছে নিজের ঘরের স্টাডি টেবলে । টেবিলের উপরে রাখা সেই স্ফটিক বীজগুলো । আলো পড়ে ঝিকমিক করছে । অনির্বাণের পাশে এসে বসলো তার ভাইপো ঋষি – পনেরো বছরের সদ্য কিশোর । অনির্বাণ তাকে শোনাচ্ছে আজকের সারাদিনের সমস্ত ঘটনা ।

“কাকু, ওরা কি আবার আসবে ?” ঋষি প্রশ্ন করে ।

“হ্যাঁ রে, আবার আগামী পাঁচ বছর পরে ।“ অনির্বাণ উত্তর দেয় ।

“তখন কি হবে ?” ঋষি উদ্বেগ-উৎকন্ঠা মেশানো গলায় জানতে চায় ।

অনির্বাণ স্নেহের সঙ্গে ঋষির মাথায় হাত বুলিয়ে উত্তর দেয়, “তখন দেখা যাবে, মানুষ নিজেকে কতোটা বদলাতে পেরেছে, সারা পৃথিবীতে ।“

ঋষি বীজগুলোর দিকে তাকিয়ে বলে, কাকু, “এই বীজগুলো আমরা কোথায় লাগাবো?”

অনির্বাণ জানলার বাইরে তাকায় । আকাশে চাঁদ উঠেছে, চাদের আলোয় সেখানে ভেসে বেড়াচ্ছে মেগের ভেলা । তার মনে পড়ে যায় বার্তাবাহকের কথা – “যেখানে সবচেয়ে বেশি দরকার।“

সে ঋষির দিকে ফিরে উত্তর দেয়, “আমরা এগুলো নিয়ে যাবো সেখানে যাকে বলা যায় পৃথিবীর ফুসফুস – আমাজনের জঙ্গল । সেখানে এই বীজ লাগাবো, শুরু হবে এক নতুন বিপ্লব ।“

ঋষির চোখ-মুখ ঝলমল করে ওঠে । সে বলে ওঠে, “আমিও তোমার সঙ্গে যাবো কাকু ।“

“কিন্তু সে কি করে হবে ? তোর পড়াশোনা রয়েছে ।“

ঋষি উত্তর দেয়, “এখন তো স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে-গ্রীষ্মের ছুটি পড়ে যাবে আর এক-দু’দিনের মধ্যেই । আর পড়া আমি ঠিক করে নেবো । কেন আমি কি পরীক্ষায় কম নাম্বার পাই?“

অনির্বাণ উত্তর দিতে পারে না । সত্যিই ঋষি পরীক্ষায় খুবই ভালো ফল করে । তাই অনির্বাণ একটু হেসে উত্তর দেয়, “আচ্ছা, ঠিক আছে । আমি তোরও যাবার ব্যবস্থা করবো । আর তোরাই তো ভবিষ্যৎ । একদিন তোদের হাতেই তো তুলে দিতে হবে এ পৃথিবীর ভার ।“

শুরু নতুন অধ্যায়

দিন কয়েক বাদে একদিন অনির্বাণ বেরিয়ে পড়ে । সঙ্গে সেই স্ফটিক বীজ আর ঋষি । রাজ্য সরকার থেকে সমস্ত ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে তাদের পুরো ট্যুরের । তারা প্রথমে যাবে আমাজনে । তারপরে আফ্রিকা । তারপরে এশিয়ার অন্যান্য প্রান্তগুলোয় । বীজগুলো বসানোর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর প্রতিটা কোণায় ছড়িয়ে দিতে হবে বার্তা – “গাছ বাঁচাও, পৃথিবী বাঁচাও ।”

বিমানে যাওয়ার সময় একবার বাইরে তাকায় । কোলকাতার আকাশে তখন মেঘেরা খেলা করছে । কিন্তু অনির্বাণ জানে, তারা শুধু মেঘ নয় । এগুলো চোখ, সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে তাদের মাধ্যমে । আর সেই দৃষ্টির সামনে টিকে থাকতে হলে ফাকি দেওয়ার কোন জায়গা নেই, সত্যিই বদলাতে হবে নিজেদের । মন থেকে বদলাতে হবে ।   

ঋষি বলে ওঠে, “কাকু, আমার কেমন ভয়-ভয় করছে । সব ঠিক হবে তো?”

অনির্বাণ উত্তর দেয়, “না রে । এটা ভয় নয়, দায়িত্বের ভার লাগছে । খুব বড় দায়িত্ব আমার উপর । কিন্তু তোরা আছিস, তাই ভরসা লাগে । তোরা ভালোবাসতে জানিস । চল, সব ভুলে দু’জনে মিলে শুরু করি এক নতুন অধ্যায় ।“

পিছনে পড়ে থাকা কোলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ গাছ যেন তাদের হাত নেড়ে শুভ কামনা জানায় আপন আত্মীয়ের মতো, - “ভালো ভাবে কাজ সেরে ফিরে এসো । পৃথিবীকে বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও ।“     

 

(পরের পর্ব পড়ুন—একটি নতুন সূচনা)

লেখকের কথা :

প্রিয় পাঠক,

“মেঘের বার্তাবাহক” সিরিজ গল্পটি কিন্তু এখানেই শেষ হচ্ছে না, বরং বলা যেতে পারে এক অন্য রকমের শুরু হতে যাচ্ছে । অনির্বাণ ও ঋষির আমাজন যাত্রা, সেখানে তাদের নতুন চ্যালেঞ্জ, আর ভিন গ্র্রহের বার্তাবাহকের পরবর্তী নির্দেশ – নিয়ে ফিরে আসবো আমরা পরের পর্বে ।

এই গল্প কিন্তু শুধুই কল্পবিজ্ঞানের একটি গল্প নয়, বরং বলা যেতে এটি আমাদের ভবিষ্যতের আয়না । যদি আমরা এখনই-আজই নিজেদের না বদলাই, কাল হয়তো খুব দেরী হয়ে যাবে । তাই আজই একটি গাছ লাগান আর প্লাস্টিক এড়িয়ে চলুন । শিশুদের শেখান প্রকৃতিকে ভালোবাসতে । তাহলে হয়তো আগামী দিনে যখন কোন ভিনগ্রহের বার্তাবাহক আসবে, হয়তো তারা হাসিমুখে বলবে – “তোমরা প্রস্তুত । পৃথিবী নিরাপদ, সুতরাং মানুষও নিরাপদ ।“

 মতামত জানাতে ভুলবেন না । "গল্পের ঝুলি"তে আবার দেখা হবে । 


যদি ভিন্ন স্বাদের গল্প পড়তে চান তাহলে নীচের ট্যা্গে ক্লিক করুন - 

# ভালোবাসার গল্প # # জীবন-অনুভূতির গল্প # # রহস্য গল্প # # বাংলা ্ছোট গল্প # # ভৌতিক গল্প #


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন